Skip to main content

'রহস্যের দেবী’ - রেখা'

 ৭০তম জন্মদিন বৃহস্পতিবার 'রহস্যের দেবী’ 

রেখা'

ভারতের বিনোদন জগতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা আবেদনময়ী অভিনেত্রী রেখা বৃহস্পতিবার ৭০ বছরে পা দিলেন। সিনেমা থেকে দূরে সরে গেলেও তার ঘটনাবহুল জীবন বারবার আলোচনায় এসেছে। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা বিতর্কে জড়িয়েছেন, জনরোষ ও কটূক্তির শিকার হয়েছেন, যা একসময় তার জীবনে বিষাদ এনেছিল।

ভারতের বিনোদন সাংবাদিক সুভাষ কে ঝা দু’বছর আগে বলেছিলেন, রেখা তার বয়স থেকে ২০ বছর কম দেখান। তার চিরসবুজ আকর্ষণ আজও বলিউডের অন্য কোনো তারকা ধরে রাখতে পারেননি।

রেখার প্রেম জীবন বিশেষ করে বলিউড কিংবদন্তি অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে সম্পর্ক এখনও আলোচনায় থাকে। ১৯৯০ সালে ব্যবসায়ী মুকেশ আগারওয়ালকে বিয়ে করলেও, তিনি বিয়ের সাত মাসের মাথায় আত্মহত্যা করেন। সেই সময়ের মিডিয়া কাভারেজ রেখাকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড় করায়। লোকেরা তাকে 'ডাইনি' আখ্যা দিয়েছিল, যা মিডিয়াতেও প্রচারিত হয়।

বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রেখা বলেছিলেন, “সংবাদমাধ্যম যা খুশি মশলা মিশিয়ে লিখবে... আমি খুব কষ্ট পেয়েছিলাম।” তবে এসব আঘাত সয়ে নিয়েই তিনি নিজেকে গুটিয়ে নেন এবং রুপালি জগৎ থেকে ধীরে ধীরে দূরে সরে যান।

রেখার আসল নাম ভানুরেখা গণেশন, জন্ম ১৯৫৪ সালের ১০ অক্টোবর তামিল সিনেমার তারকা পরিবারে। ১৯৬৬ সালে শিশুশিল্পী হিসেবে তেলুগু সিনেমায় অভিষেক হলেও, নায়িকা হিসেবে প্রথম সিনেমা ছিল ‘শাওন ভাদো’ (১৯৭০)।

অপটু এক কিশোরী থেকে জাতীয় পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী হয়ে উঠতে রেখাকে অনেক বাধা পেরোতে হয়। বাবা জেমিনি গণেশন ছেড়ে যাওয়ায় কিশোরী রেখাকে আর্থিক অনটনের কারণে অভিনয়ে নামতে হয়। মুম্বাইয়ে অপরিচিত ভাষা ও পুরুষশাসিত ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গা তৈরি করতে কঠিন লড়াই করতে হয় তাকে।

৪০ বছরের ক্যারিয়ারে রেখা ২০০টিরও বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন, পেয়েছেন তিনটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার এবং উমরাওজানের জন্য ১৯৮১ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। তার জীবনটা যেন সিনেমার মতোই ঘটনাবহুল।

সুভাষ ঝা বলেছেন, রেখা তার অতুলনীয় গুণের জন্য বছরের পর বছর ধরে অনেকের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছেন। আর নিজের সুরক্ষায় তিনি নিজেকে দ্রুত গুটিয়ে নেন। রেখা একবার বলেছিলেন, “আঘাতের সংখ্যা এত বেশি যে গুনে রাখতে পারিনি। তাই এখন আর আঘাত আমাকে প্রভাবিত করতে পারে না।”

Comments

Popular posts from this blog

প্রক্রিয়াজাত এবং অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার কোন টি ভাল

  প্রক্রিয়াজাত খাবার বলতে এমন খাবার বোঝানো হয় যেগুলো কাঁচামাল থেকে তৈরি করার পর খুব বেশি পরিবর্তন না হয়ে কিছুটা প্রক্রিয়াজাত করা হয়, যেমন আটা থেকে পাউরুটি তৈরি, দুধ থেকে দই প্রস্তুত করা, কিংবা শুকনা ফল তৈরি করা। এই ধরনের খাবারে প্রাকৃতিক পুষ্টি উপাদানগুলি অনেকাংশে অক্ষত থাকে। এছাড়া, অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার বলতে এমন খাবার বোঝানো হয় যেগুলো তৈরিতে অনেক বেশি রাসায়নিক উপাদান, রং বা স্বাদ যুক্ত করা হয়, এবং এগুলো অতিরিক্ত প্রক্রিয়াকরণের ফলে পুষ্টির মান কমে যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কৃত্রিম স্বাদ বা ট্রান্স ফ্যাট যুক্ত পপকর্ন। সব মিলিয়ে, কিছু প্রক্রিয়াজাত খাবার স্বাস্থ্যকর হতে পারে, তবে অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা দরকার। প্রক্রিয়াজাত খাবার (Processed Foods): প্রক্রিয়াজাত খাবার হলো সেসব খাবার যা প্রস্তুতির সময় কাঁচামাল বা উপাদানগুলোর কিছু পরিবর্তন ঘটে, তবে তারা তার মৌলিক গুণাবলী প্রায় অক্ষত রাখে। এই প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে খাবারের নিরাপত্তা বৃদ্ধি, পুষ্টি সংরক্ষণ বা ভোজনের উপযোগিতা বাড়ানো হয়। উদাহরণ: বাদামি পাউরুটি : প্রক্রিয়াজাতকরণ : পাউরুটি গমের আটা দিয়ে প্রস্তুত হয়। তব...

শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের জয়

    আপডেটের ভিত্তিতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বিজয়ী হিসাবে প্রজেক্ট করা হয়েছে। তিনি ২৭৯টি ইলেক্টোরাল ভোট পেয়েছেন, যেখানে কমলা হ্যারিসের ২২৩ ভোট রয়েছে এবং জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ২৭০ ভোটের সীমা ছাড়িয়ে গেছেন। ট্রাম্প প্রায় ৫১% জনপ্রিয় ভোট পেয়েছেন, আর হ্যারিস পেয়েছেন ৪৭.৪% ভোট। নর্থ ক্যারোলাইনা, জর্জিয়া, পেনসিলভেনিয়া এবং উইসকনসিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সুইং স্টেটগুলো তার জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। কিছু ফলাফলের ঘনিষ্ঠতা সত্ত্বেও, মিডিয়া আউটলেটগুলো পূর্বানুমানের চেয়ে আগে ট্রাম্পকে সামগ্রিক বিজয়ী হিসাবে ঘোষণা করতে পেরেছে। ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে ২০ জানুয়ারি ২০২৫ সালে উদ্বোধনের পর প্রেসিডেন্ট হবেন। তার আগ পর্যন্ত ইলেক্টোরাল কলেজ ফলাফলগুলি আনুষ্ঠানিক করবে, যেখানে রাজ্যগুলো ১৭ ডিসেম্বর তাদের ভোটগুলি নিশ্চিত করবে এবং কংগ্রেস ৬ জানুয়ারি ভোট গণনা করতে একত্রিত হবে। এই প্রক্রিয়াটি নিয়মিত হলেও এটি নিশ্চিত করে যে সমস্ত রাজ্যের ফলাফল ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার আগে যাচাই করা হয়েছে। ট্রাম্পের ২০২৪ সালের এই বিজয় ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর...

বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন যে কুকুর একটি নতুন বিবর্তন ধাপে প্রবেশ করছে।

  মানুষের পোষা প্রাণীর প্রতি আগ্রহের কারণে কুকুরের মধ্যে একটি তৃতীয় ধাপের গৃহপালন প্রক্রিয়া চলছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন পোষা কুকুরকে বন্ধুত্বপূর্ণ, শান্ত এবং গৃহস্থ জীবনযাপনে অভ্যস্ত হিসেবে তৈরি করার প্রতি মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। কয়েক দশক আগেও কুকুরকে প্রধানত কাজের জন্য রাখা হতো—যেমন শিকার, গৃহপালিত প্রাণী পাহারা দেওয়া বা ঘরবাড়ি রক্ষা করা। তবে বর্তমান সময়ে মানুষের জন্য কুকুর companionship বা সঙ্গী হিসেবে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিজ্ঞানীরা দেখতে পেয়েছেন যে এই পরিবর্তনের ফলে কুকুরের মধ্যে সামাজিক বন্ধনের জন্য দায়ী একটি হরমোন, বিশেষত সেবা-কুকুরদের ক্ষেত্রে, বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের জীবনের গতি ধীর হয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে কুকুরের জীবনেও এই পরিবর্তন ঘটেছে, যা কুকুরের গৃহপালন প্রক্রিয়ার তৃতীয় ধাপ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ২০১৭ সালে সুইডেনের লিংকোপিং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা দেখান যে অক্সিটোসিন নামের হরমোনই কুকুরকে তার মালিকের সঙ্গে বন্ধন তৈরি করতে অনুপ্রাণিত করে। গবেষকরা বিশ্বাস করেন, যখন মানুষ নেকড়েদের পোষ মানিয়ে কুকুরে পরিণত করে, তখন এই অক্সিটোসিনের প্রতি তাদের সংবেদনশীলতা বেড়ে যায়। ...