Skip to main content

দেশের বিভিন্ন স্থানে অনেক ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি

 ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি



বাংলাদেশে ডেঙ্গু জ্বরে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে, এবং গত ২৪ ঘণ্টায় ৯৬১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এই এডিস মশাবাহিত রোগের কারণে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (ডিজিএইচএস) জানিয়েছে, নতুন রোগীদের মধ্যে ৪০১ জনকে শনিবার সকাল পর্যন্ত ঢাকায় ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া, ঢাকা বিভাগে ১৪৯, ময়মনসিংহে ৪৪, চট্টগ্রামে ১৪১, খুলনায় ১০৫, রাজশাহীতে ২১, সিলেটে ৫, রংপুরে ১ এবং বরিশালে ৯৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

নতুন আক্রান্তদের সাথে এবছরে মোট ৫৫,৬৬৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যার মধ্যে ২৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৩,৯৩৭ জন রোগী ডেঙ্গুর চিকিৎসা নিচ্ছেন, এর মধ্যে ১,৯৩৯ জন রাজধানীতে এবং ১,৯৯৮ জন অন্যান্য অঞ্চলে।

ডিজিএইচএস ২০০০ সাল থেকে ডেঙ্গু রোগীর ভর্তি এবং মৃত্যুর তথ্য সংগ্রহ করছে। এই বছর রেকর্ড ৩২১,১৭৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন, যার মধ্যে সর্বোচ্চ ১,৭০৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এছাড়া, ডিজিএইচএস ডেঙ্গু জ্বরের বিস্তার রোধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম এবং সম্প্রদায়ের সম্পৃক্ততা মশার প্রজননস্থল কমাতে এবং সম্ভাব্য প্রাদুর্ভাব থেকে জনগণকে রক্ষা করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জনগণকে মশার কামড় থেকে রক্ষা করতে এবং যথাযথ স্যানিটেশন নিশ্চিত করতে সতর্ক করেছেন।

ডেঙ্গুর পরিস্থিতি বদলাচ্ছে, স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ আক্রান্ত অঞ্চলে নজরদারি এবং সাড়া দেওয়ার প্রচেষ্টা বাড়াচ্ছে। হাসপাতালগুলো রোগীদের বাড়তি সংখ্যার মোকাবেলা করার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং চিকিৎসকদল সঠিক সময়ে চিকিৎসা প্রদানে প্রস্তুত রয়েছে। ডিজিএইচএস স্থানীয় সরকার এবং সংস্থাগুলির সাথে সহযোগিতা করে চিকিৎসার প্রবেশাধিকার বাড়াতে এবং লক্ষণগুলি দ্রুত শনাক্ত করার বিষয়ে জনসাধারণকে শিক্ষা দিচ্ছে। যে সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে তারা এই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং আরও মৃত্যুরোধে সক্ষম হবেন। আগামী সপ্তাহগুলোতে চলমান নজরদারি এবং সম্প্রদায়ের সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি হবে।

ডেঙ্গু জ্বরের বিরুদ্ধে সুরক্ষা বৃদ্ধির জন্য সুপারিশ:

  1. প্রজননস্থল নির্মূল করুন: নিয়মিতভাবে পানি জমে থাকা পাত্র, গাছের টবে এবং অন্যান্য এলাকায় পানি পরিষ্কার করুন যেখানে মশা প্রজনন করতে পারে।

  2. মশার রেপেলেন্ট ব্যবহার করুন: প্রকাশিত ত্বকে মশার কামড় থেকে রক্ষা করতে রেপেলেন্ট লাগান এবং লম্বা হাতা ও প্যান্ট পরুন।

  3. স্ক্রিন ইনস্টল করুন: বাড়ির জানালায় ও দরজায় স্ক্রিন ব্যবহার করুন এবং প্রয়োজনে মশার জাল ব্যবহার করুন।

  4. সম্প্রদায়ের সম্পৃক্ততা: স্থানীয় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করুন এবং মশা প্রজনন রোধের গুরুত্ব সম্পর্কে অন্যদের সচেতন করুন।

  5. তথ্যপ্রবাহে থাকুন: স্থানীয় স্বাস্থ্য নির্দেশিকা এবং ডেঙ্গুর সতর্কতা সম্পর্কে আপডেট থাকুন।

প্রতিকার হিসেবে, যদিও ডেঙ্গুর নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই, তবে কিছু উপায় আছে যা উপসর্গ হ্রাস করতে এবং সুস্থতায় সহায়তা করতে পারে:

  1. হাইড্রেটেড থাকুন: প্রচুর তরল গ্রহণ করুন, যেমন পানি, ইলেকট্রোলাইট সমাধান, এবং হার্বাল চা।

  2. যন্ত্রণা উপশম: পারাসিটামল (অ্যাসিটামিনোফেন) জাতীয় ওভার-দ্য-কাউন্টার মেডিকেশন ব্যবহার করুন, এবং আইবুপ্রোফেন বা অ্যাসপিরিন থেকে দূরে থাকুন।

  3. বিশ্রাম করুন: পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন, যাতে শরীর সুস্থ হতে পারে।

  4. পুষ্টি: ফল, শাকসবজি এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ একটি ব্যালান্সড ডায়েট গ্রহণ করুন।

  5. লক্ষণ মনিটর করুন: লক্ষণগুলোর দিকে নজর রাখুন এবং যদি এগুলি খারাপ হয় বা গুরুতর লক্ষণ দেখা দেয়, যেমন অবিরাম বমি, তীব্র পেটের ব্যথা, অথবা রক্তপাত, তবে চিকিৎসকের কাছে যান।

  6. চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করুন: সবসময় স্বাস্থ্যসেবা পেশাদারের সাথে যোগাযোগ করুন উপসর্গ পরিচালনা ও পর্যবেক্ষণের জন্য।

ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হতে কিছু পুষ্টিকর খাবার সহায়তা করতে পারে। এখানে কিছু উপকারী খাদ্য:

  1. হাইড্রেটিং খাবার: তরমুজ, শসা, কমলা, এবং স্ট্রবেরির মতো উচ্চ জলীয় খাবার অন্তর্ভুক্ত করুন।

  2. পাতা জাতীয় সবজি: পালং শাক, কেল, এবং অন্যান্য সবুজ শাকগুলি ভিটামিন ও খনিজে সমৃদ্ধ।

  3. ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল: কমলা, লেবু, পেঁপে এবং গাবা, যা আপনার ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে।

  4. পাতলা প্রোটিন: চিকেন, মাছ, ডিম এবং দাল অন্তর্ভুক্ত করুন।

  5. পুরনো শস্য: ব্রাউন রাইস, কোয়িনোয়া এবং পুরো শস্যের রুটি।

  6. সুপ এবং ব্রথ: হালকা সুপ এবং ব্রথ।

  7. হলুদ: অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণ রয়েছে, খাবারে যোগ করুন।

  8. আদা: গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।

ভারি, মশলাদার এবং তেলের খাবার এড়িয়ে চলুন, কারণ এগুলি হজমে সমস্যা করতে পারে। সর্বদা চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন।

উপসংহার

ডেঙ্গু জ্বর একটি উল্লেখযোগ্য স্বাস্থ্য সমস্যা, বিশেষ করে প্রাদুর্ভাবের সময়। যদিও এর নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই, সহায়ক যত্ন এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা রোগটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং এর বিস্তার কমাতে অত্যন্ত জরুরি। জল পানে, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণে এবং বিশ্রাম নিতে হবে। এছাড়াও, মশা প্রজনন রোধ এবং সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সম্প্রদায়ের উদ্যোগগুলির গুরুত্ব অপরিসীম। একসাথে কাজ করে এবং সতর্ক থেকে, ব্যক্তি এবং সম্প্রদায় তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখতে এবং জনস্বাস্থ্য উদ্যোগে সহায়তা করতে পারে। লক্ষণ দেখা দিলে বা খারাপ হলে সর্বদা চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, যাতে সময়মত সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা যায়।

Comments

Popular posts from this blog

"Prioritizing Personal Time with Your Kids to Prevent Behavioral Issues"

   "Outbursts of Frustration When Screen Time Is Restricted" "Cries and shouts when not allowed to use a mobile device." It’s definitely challenging when kids are so drawn to smart devices, and Gen Alpha, who have grown up with technology all around them, feel especially connected to these gadgets. Here are some strategies that might help balance their needs with healthy boundaries: Set Clear Rules:  Establish specific times for device use (e.g., after homework, for 30 minutes in the evening) so they know there’s a structured time for it. Offer Alternatives:  Give them engaging activities that don’t involve screens, like crafts, books, or outdoor play, which can keep them just as entertained without being on a device. Consider a Basic Device : If you decide to provide a mobile, you could start with a basic one without social media apps, like a Gabb Phone or a Nokia C Series. These give them a sense of ownership without access to addictive features like games and soc...

Our Seven Heroes

  বীরশ্রেষ্ঠের জীবনী , তাদের বীরত্বপূর্ণ অবদান এবং মৃত্যুর বেদনাদায়ক কাহিনি তুলে ধরা হলো :   ১ . বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল জন্ম : ১৬ ডিসেম্বর ১৯৪৭ , ভোলা জেলার হাজীপুর গ্রামে। পরিবার : দরিদ্র কৃষক পরিবারের সন্তান। বাবা হাবিবুর রহমান। বীরত্ব : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রণাঙ্গনে শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই করেন। শত্রুর ভারী হামলার মুখেও তিনি একা প্রতিরোধ চালিয়ে যান। তার এই লড়াই মুক্তিবাহিনীর অন্যদের পিছু হটার সুযোগ করে দেয়। মৃত্যু : ১৮ এপ্রিল ১৯৭১ , শত্রুর গুলিতে গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। বেদনাদায়ক মুহূর্ত : আহত অবস্থায় তার দেহ শত্রুপক্ষের হাতে পড়ে যায়। পরিবারের জন্য ছিল এক বিশাল বেদনার ঘটনা। ২ . বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান জন্ম : ২ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৩ , ঝিনাইদহ জেলার খোরদা খালিশপুর গ্রামে। পরিবার : দরিদ্র কৃষক পরিবার। বাবা আব্দুর রউফ। বীরত্ব : ধলই এলাকায় শত্রুর শক্ত ঘাঁটিতে মাইন পুঁতে তাদের অবস্থান ধ্বংস করেন। তার বুদ্ধি ও সাহস শত্রুর বড় ...

চিনা বাদাম খেলে যা হয়

  চিনাবাদাম যেমন সুস্বাদু , তেমনি পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। ভিটামিন ও খনিজের উৎকৃষ্ট উৎস হিসেবে এটি হৃদস্বাস্থ্য থেকে শুরু করে পেশির ক্ষয় পূরণ — প্রায় সব ক্ষেত্রেই সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। এর পাশাপাশি , চিনাবাদাম অন্যান্য বাদামের তুলনায় তুলনামূলক সস্তা। তবে মার্কিন পুষ্টিবিদ ডিস্টিনি মুডি সতর্ক করে বলেন , “ অন্যান্য খাবারের মতো চিনাবাদামও অতিরিক্ত খেলে দেহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ” পুষ্টিগুণ ( প্রতি ২৮ গ্রাম ): ক্যালরি : ১৬১ ফ্যাট : ১৪ গ্রাম ( স্যাচুরেটেড ফ্যাট : ২ গ্রাম ) সোডিয়াম : ৫ মি . গ্রাম ম্যাগনেসিয়াম : ৪৮ মি . গ্রাম কার্বস : ৪ . ৫ গ্রাম ( আঁশ : ২ গ্রাম , চিনি : ১ গ্রাম ) প্রোটিন : ৭ গ্রাম উপকারিতা : উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের উৎস :   প্রতি ১০০ গ্রাম চিনাবাদামে ২৫ গ্রাম প্রোটিন থাকে , যা উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের উৎকৃষ্ট উৎস হতে পারে। এতে থাকা অ্যামিনো অ্যাসিড পেশির গঠন ও ক্ষতিপূরণে সহায়ক। হৃদস্বাস্থ্যের জন্য উপকারী :   চিনাবাদামে র...