Skip to main content

বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে ৮৪তম অবস্থানে নেমেছে বাংলাদেশ।

ক্ষুধা সূচক ৮১ থেকে হলো ৮৪



বাংলাদেশ বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে তিন ধাপ নিচে নেমে এবার ৮৪তম স্থানে অবস্থান করছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের ২৩.৬ শতাংশ শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি অপুষ্টির কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সূচকের ভিত্তিতে করা দেশভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এবারের গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স (জিএইচআই) স্কোর ১৯.৪, যা ১২৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশকে ৮৪তম স্থানে রেখেছে। গত বছর বাংলাদেশের স্কোর ছিল ১৯, এবং অবস্থান ছিল ৮১তম। শুক্রবার প্রকাশিত এই সূচকে বাংলাদেশের অবনমনের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে, যা দেশের জনসংখ্যার মধ্যে বিশেষ করে শিশুদের ক্ষুধার চিত্র এবং স্বাস্থ্যগত অবস্থার উপর আলোকপাত করেছে।

তবে, ২০১৬ সালের তুলনায় বাংলাদেশে ক্ষুধার মাত্রা কিছুটা কমেছে; সে বছর স্কোর ছিল ২৪.৭। ক্ষুধা সূচকে স্কোর যত কম, দেশটি ক্ষুধামুক্তির পথে তত অগ্রসর বলে ধরা হয়। ক্ষুধা সূচকের মাপকাঠিগুলো হলো: অপুষ্টির হার, ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের উচ্চতার তুলনায় কম ওজনের হার, ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের কম উচ্চতার হার এবং শিশুমৃত্যুর হার। এই চারটি মাপকাঠির ওপর ভিত্তি করে গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স তৈরি হয়।

শূন্য স্কোরকে সেরা এবং ১০০ স্কোরকে সবচেয়ে খারাপ হিসাবে গণ্য করা হয়। স্কোর যত বেশি হয়, ক্ষুধার পরিস্থিতি তত খারাপ এবং স্কোর কম হলে পরিস্থিতির উন্নতি বোঝায়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের জনসংখ্যার ১১.৯ শতাংশ অপুষ্টির শিকার এবং ৫ বছরের কম বয়সী ২.৯ শতাংশ শিশু পঞ্চম জন্মদিনের আগেই মারা যায়। অপুষ্টির কারণে ২৩.৬ শতাংশ শিশুর বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং ৫ বছরের কম বয়সী ১১ শতাংশ শিশুর শারীরিক বিকাশ কম হচ্ছে, অর্থাৎ তাদের ওজন বয়সের তুলনায় বাড়ছে না।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শ্রীলঙ্কা ৫৬তম, নেপাল ৬৮তম, ভারত ১০৫তম এবং পাকিস্তান ১০৯তম স্থানে রয়েছে।

Comments

Popular posts from this blog

প্রক্রিয়াজাত এবং অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার কোন টি ভাল

  প্রক্রিয়াজাত খাবার বলতে এমন খাবার বোঝানো হয় যেগুলো কাঁচামাল থেকে তৈরি করার পর খুব বেশি পরিবর্তন না হয়ে কিছুটা প্রক্রিয়াজাত করা হয়, যেমন আটা থেকে পাউরুটি তৈরি, দুধ থেকে দই প্রস্তুত করা, কিংবা শুকনা ফল তৈরি করা। এই ধরনের খাবারে প্রাকৃতিক পুষ্টি উপাদানগুলি অনেকাংশে অক্ষত থাকে। এছাড়া, অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার বলতে এমন খাবার বোঝানো হয় যেগুলো তৈরিতে অনেক বেশি রাসায়নিক উপাদান, রং বা স্বাদ যুক্ত করা হয়, এবং এগুলো অতিরিক্ত প্রক্রিয়াকরণের ফলে পুষ্টির মান কমে যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কৃত্রিম স্বাদ বা ট্রান্স ফ্যাট যুক্ত পপকর্ন। সব মিলিয়ে, কিছু প্রক্রিয়াজাত খাবার স্বাস্থ্যকর হতে পারে, তবে অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা দরকার। প্রক্রিয়াজাত খাবার (Processed Foods): প্রক্রিয়াজাত খাবার হলো সেসব খাবার যা প্রস্তুতির সময় কাঁচামাল বা উপাদানগুলোর কিছু পরিবর্তন ঘটে, তবে তারা তার মৌলিক গুণাবলী প্রায় অক্ষত রাখে। এই প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে খাবারের নিরাপত্তা বৃদ্ধি, পুষ্টি সংরক্ষণ বা ভোজনের উপযোগিতা বাড়ানো হয়। উদাহরণ: বাদামি পাউরুটি : প্রক্রিয়াজাতকরণ : পাউরুটি গমের আটা দিয়ে প্রস্তুত হয়। তব...

শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের জয়

    আপডেটের ভিত্তিতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বিজয়ী হিসাবে প্রজেক্ট করা হয়েছে। তিনি ২৭৯টি ইলেক্টোরাল ভোট পেয়েছেন, যেখানে কমলা হ্যারিসের ২২৩ ভোট রয়েছে এবং জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ২৭০ ভোটের সীমা ছাড়িয়ে গেছেন। ট্রাম্প প্রায় ৫১% জনপ্রিয় ভোট পেয়েছেন, আর হ্যারিস পেয়েছেন ৪৭.৪% ভোট। নর্থ ক্যারোলাইনা, জর্জিয়া, পেনসিলভেনিয়া এবং উইসকনসিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সুইং স্টেটগুলো তার জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। কিছু ফলাফলের ঘনিষ্ঠতা সত্ত্বেও, মিডিয়া আউটলেটগুলো পূর্বানুমানের চেয়ে আগে ট্রাম্পকে সামগ্রিক বিজয়ী হিসাবে ঘোষণা করতে পেরেছে। ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে ২০ জানুয়ারি ২০২৫ সালে উদ্বোধনের পর প্রেসিডেন্ট হবেন। তার আগ পর্যন্ত ইলেক্টোরাল কলেজ ফলাফলগুলি আনুষ্ঠানিক করবে, যেখানে রাজ্যগুলো ১৭ ডিসেম্বর তাদের ভোটগুলি নিশ্চিত করবে এবং কংগ্রেস ৬ জানুয়ারি ভোট গণনা করতে একত্রিত হবে। এই প্রক্রিয়াটি নিয়মিত হলেও এটি নিশ্চিত করে যে সমস্ত রাজ্যের ফলাফল ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার আগে যাচাই করা হয়েছে। ট্রাম্পের ২০২৪ সালের এই বিজয় ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর...

বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন যে কুকুর একটি নতুন বিবর্তন ধাপে প্রবেশ করছে।

  মানুষের পোষা প্রাণীর প্রতি আগ্রহের কারণে কুকুরের মধ্যে একটি তৃতীয় ধাপের গৃহপালন প্রক্রিয়া চলছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন পোষা কুকুরকে বন্ধুত্বপূর্ণ, শান্ত এবং গৃহস্থ জীবনযাপনে অভ্যস্ত হিসেবে তৈরি করার প্রতি মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। কয়েক দশক আগেও কুকুরকে প্রধানত কাজের জন্য রাখা হতো—যেমন শিকার, গৃহপালিত প্রাণী পাহারা দেওয়া বা ঘরবাড়ি রক্ষা করা। তবে বর্তমান সময়ে মানুষের জন্য কুকুর companionship বা সঙ্গী হিসেবে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিজ্ঞানীরা দেখতে পেয়েছেন যে এই পরিবর্তনের ফলে কুকুরের মধ্যে সামাজিক বন্ধনের জন্য দায়ী একটি হরমোন, বিশেষত সেবা-কুকুরদের ক্ষেত্রে, বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের জীবনের গতি ধীর হয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে কুকুরের জীবনেও এই পরিবর্তন ঘটেছে, যা কুকুরের গৃহপালন প্রক্রিয়ার তৃতীয় ধাপ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ২০১৭ সালে সুইডেনের লিংকোপিং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা দেখান যে অক্সিটোসিন নামের হরমোনই কুকুরকে তার মালিকের সঙ্গে বন্ধন তৈরি করতে অনুপ্রাণিত করে। গবেষকরা বিশ্বাস করেন, যখন মানুষ নেকড়েদের পোষ মানিয়ে কুকুরে পরিণত করে, তখন এই অক্সিটোসিনের প্রতি তাদের সংবেদনশীলতা বেড়ে যায়। ...