Skip to main content

বাল্যবিয়ে সুস্থ সন্তানের জন্ম দিতে পারেন না

বাল্যবিয়েকে না।  

সুস্থ সন্তান প্রথমে। 

বাংলাদেশে বাল্যবিয়ের হার এখনও উদ্বেগজনক। জাতিসংঘের শিশু তহবিল (UNICEF) অনুযায়ী, দেশের ৩৫% মেয়ের বিয়ে ১৮ বছরের আগে হয়ে যায়। বাল্যবিয়ের ফলে কিশোরীদের মধ্যে নানা স্বাস্থ্য জটিলতার সৃষ্টি হয়, যা শুধু তাদের জীবন নয়, ভবিষ্যৎ সন্তানের জীবনকেও প্রভাবিত করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা কিশোর বয়সে গর্ভধারণ করে, তাদের মধ্যে রক্তশূন্যতা, অপুষ্টি এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যগত জটিলতার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। এমনকি এই মেয়েরা সুস্থ সন্তানের জন্ম দিতে সক্ষম হয় না।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, যখন একটি কিশোরী মা হয়ে ওঠে, তখন তার শরীর এখনও পূর্ণরূপে বিকশিত হয়নি। ফলে গর্ভাবস্থায় তার শরীর নানা ধরনের চাপ ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়। এই পরিস্থিতিতে, গর্ভধারণের জটিলতা যেমন কিশোরীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে বিপদে ফেলে, তেমনি নবজাতকের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করে।

বাল্যবিয়ের সামাজিক প্রভাব

বাল্যবিয়ের ফলে কেবল স্বাস্থ্যগত সমস্যা নয়, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা ও দেখা দেয়। কিশোরীরা স্কুলে যেতে পারে না, ফলে তাদের শিক্ষার সুযোগ কমে যায়। এতে করে তাদের আর্থিক ভবিষ্যৎও হুমকির মুখে পড়ে।

সমাধান ও পদক্ষেপ

১. শিক্ষার উন্নয়ন:
কিশোরীদের শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। সরকার এবং এনজিওগুলোকে একত্রিত হয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির ক্যাম্পেইন চালাতে হবে, যাতে পরিবারগুলো কিশোরীদের শিক্ষা অব্যাহত রাখতে উৎসাহিত হয়।

২. স্বাস্থ্যসেবা প্রবেশাধিকার:
কিশোরীদের জন্য প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা দরকার। স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ এবং বিনামূল্যে স্বাস্থ্যপরীক্ষার ব্যবস্থা করলে কিশোরীরা স্বাস্থ্যগত জটিলতা সম্পর্কে সচেতন হতে পারবে।

৩. সামাজিক সচেতনতা:
বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা তৈরি করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা এবং প্রচারণা চালানো যেতে পারে।

৪. আইনি উদ্যোগ:
সরকারের উচিত বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং এর প্রয়োগ নিশ্চিত করা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ট্রেনিং দেওয়া উচিত যাতে তারা এই ধরনের পরিস্থিতিতে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে পারে।

৫. পারিবারিক সম্পৃক্ততা:
পরিবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিভাবকদেরকে বাল্যবিয়ের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করা হলে তারা তাদের কন্যাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও বেশি চিন্তিত হবেন।

বাল্যবিয়ের প্রভাব কেবল কিশোরীদের স্বাস্থ্যের ওপর নয়, বরং পুরো সমাজের উন্নতির ওপরও প্রভাব ফেলে। তাই আমাদের উচিত যৌথভাবে এই সমস্যার সমাধান করা, যাতে আগামী প্রজন্ম সুস্থ ও শিক্ষিতভাবে বেড়ে উঠতে পারে।

সচেতনতা বৃদ্ধির গুরুত্ব

বাল্যবিয়ের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমাজে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হলে, অনেক পরিবার তাদের কন্যাদের শিক্ষার দিকে আরও মনোযোগী হবে।

সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে, যেমন:

  • কমিউনিটি কর্মশালা: স্থানীয়ভাবে কর্মশালা আয়োজন করে অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো। এখানে বিশেষজ্ঞরা তাদের সন্তানদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা দিতে পারেন।

  • মিডিয়া প্রচারণা: টেলিভিশন, রেডিও ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তথ্যপূর্ণ প্রচারণা চালানো। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে বিষয়টির গুরুত্ব সম্পর্কে অবহিত করতে মিডিয়া একটি শক্তিশালী মাধ্যম।

  • স্কুল পর্যায়ের শিক্ষা: বিদ্যালয়ে বাল্যবিয়ের বিপক্ষে পাঠ্যক্রমে বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির মাধ্যমে তারা তাদের পরিবারকেও প্রভাবিত করতে সক্ষম হবে।

  • সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিশোরীদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষার ওপর বাল্যবিয়ের প্রভাব সম্পর্কে সম্যক ধারণা অর্জন করা দরকার।

    • স্থানীয় কমিউনিটি লিডারদের ভূমিকা: স্থানীয় নেতাদের সাহায্যে এই সচেতনতা প্রচারণা চালানো হলে, সাধারণ মানুষ এতে বেশি সাড়া দিতে পারে। তারা নিজেদের মতামত এবং অভিজ্ঞতা শেয়ার করলে বিষয়টি আরো বাস্তবমুখী হবে।

    • যুবক ও যুবতীদের সম্পৃক্ততা: যুবক ও যুবতীদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করা তাদের পরিবারের প্রতি প্রভাব ফেলতে পারে। তারা যদি এই বিষয়ে নিজেদের মতামত প্রকাশ করে, তাহলে তাদের পরিবারগুলোও সচেতন হবে।

    • সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার: ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও টুইটারের মতো প্ল্যাটফর্মে সচেতনতা সৃষ্টির প্রচারণা চালানো যেতে পারে। সেখানে ইনফোগ্রাফিক্স, ভিডিও এবং গল্পের মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানো সম্ভব।

    • উপসংহার

    • বাল্যবিয়ের প্রভাব কেবল কিশোরীদের স্বাস্থ্য এবং সুস্থ সন্তানের জন্মদানে নয়, বরং সমাজের সার্বিক উন্নতির ওপরও গভীর প্রভাব ফেলে। সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আমরা এই সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তুলতে পারি।

      আমাদের উচিত যৌথভাবে এই সমস্যার সমাধানে কাজ করা, যাতে আগামী প্রজন্ম একটি সুস্থ, নিরাপদ ও শিক্ষিত পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারে। কিশোরীদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অধিকার রক্ষায় সকলের সহযোগিতা অপরিহার্য। সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে এই গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে হবে, যাতে বাল্যবিয়ের মতো একটি অনৈতিক ও ক্ষতিকর প্রথা থেকে আমরা মুক্তি পেতে পারি।

Comments

Popular posts from this blog

"Prioritizing Personal Time with Your Kids to Prevent Behavioral Issues"

   "Outbursts of Frustration When Screen Time Is Restricted" "Cries and shouts when not allowed to use a mobile device." It’s definitely challenging when kids are so drawn to smart devices, and Gen Alpha, who have grown up with technology all around them, feel especially connected to these gadgets. Here are some strategies that might help balance their needs with healthy boundaries: Set Clear Rules:  Establish specific times for device use (e.g., after homework, for 30 minutes in the evening) so they know there’s a structured time for it. Offer Alternatives:  Give them engaging activities that don’t involve screens, like crafts, books, or outdoor play, which can keep them just as entertained without being on a device. Consider a Basic Device : If you decide to provide a mobile, you could start with a basic one without social media apps, like a Gabb Phone or a Nokia C Series. These give them a sense of ownership without access to addictive features like games and soc...

Our Seven Heroes

  বীরশ্রেষ্ঠের জীবনী , তাদের বীরত্বপূর্ণ অবদান এবং মৃত্যুর বেদনাদায়ক কাহিনি তুলে ধরা হলো :   ১ . বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল জন্ম : ১৬ ডিসেম্বর ১৯৪৭ , ভোলা জেলার হাজীপুর গ্রামে। পরিবার : দরিদ্র কৃষক পরিবারের সন্তান। বাবা হাবিবুর রহমান। বীরত্ব : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রণাঙ্গনে শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই করেন। শত্রুর ভারী হামলার মুখেও তিনি একা প্রতিরোধ চালিয়ে যান। তার এই লড়াই মুক্তিবাহিনীর অন্যদের পিছু হটার সুযোগ করে দেয়। মৃত্যু : ১৮ এপ্রিল ১৯৭১ , শত্রুর গুলিতে গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। বেদনাদায়ক মুহূর্ত : আহত অবস্থায় তার দেহ শত্রুপক্ষের হাতে পড়ে যায়। পরিবারের জন্য ছিল এক বিশাল বেদনার ঘটনা। ২ . বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান জন্ম : ২ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৩ , ঝিনাইদহ জেলার খোরদা খালিশপুর গ্রামে। পরিবার : দরিদ্র কৃষক পরিবার। বাবা আব্দুর রউফ। বীরত্ব : ধলই এলাকায় শত্রুর শক্ত ঘাঁটিতে মাইন পুঁতে তাদের অবস্থান ধ্বংস করেন। তার বুদ্ধি ও সাহস শত্রুর বড় ...

চিনা বাদাম খেলে যা হয়

  চিনাবাদাম যেমন সুস্বাদু , তেমনি পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। ভিটামিন ও খনিজের উৎকৃষ্ট উৎস হিসেবে এটি হৃদস্বাস্থ্য থেকে শুরু করে পেশির ক্ষয় পূরণ — প্রায় সব ক্ষেত্রেই সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। এর পাশাপাশি , চিনাবাদাম অন্যান্য বাদামের তুলনায় তুলনামূলক সস্তা। তবে মার্কিন পুষ্টিবিদ ডিস্টিনি মুডি সতর্ক করে বলেন , “ অন্যান্য খাবারের মতো চিনাবাদামও অতিরিক্ত খেলে দেহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ” পুষ্টিগুণ ( প্রতি ২৮ গ্রাম ): ক্যালরি : ১৬১ ফ্যাট : ১৪ গ্রাম ( স্যাচুরেটেড ফ্যাট : ২ গ্রাম ) সোডিয়াম : ৫ মি . গ্রাম ম্যাগনেসিয়াম : ৪৮ মি . গ্রাম কার্বস : ৪ . ৫ গ্রাম ( আঁশ : ২ গ্রাম , চিনি : ১ গ্রাম ) প্রোটিন : ৭ গ্রাম উপকারিতা : উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের উৎস :   প্রতি ১০০ গ্রাম চিনাবাদামে ২৫ গ্রাম প্রোটিন থাকে , যা উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের উৎকৃষ্ট উৎস হতে পারে। এতে থাকা অ্যামিনো অ্যাসিড পেশির গঠন ও ক্ষতিপূরণে সহায়ক। হৃদস্বাস্থ্যের জন্য উপকারী :   চিনাবাদামে র...