Skip to main content

বিলোনিয়া স্থলবন্দর

 


বিলোনিয়া স্থলবন্দরের অবস্থান ও সংযোগ
  1. অবস্থান:
    বিলোনিয়া স্থলবন্দরটি ফেনী জেলার পরশুরাম উপজেলার বিলোনিয়া এলাকায় অবস্থিত। এটি ফেনী শহর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে এবং ত্রিপুরা রাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সাব্রুমের সাথে সংযুক্ত।

  2. সীমান্ত গেট:
    স্থলবন্দরটি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে অবস্থিত একটি আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার, যেখানে দুই দেশের নাগরিকরা নির্দিষ্ট ভিসা নিয়ে যাতায়াত করেন।

  3. নিকটবর্তী শহর:
    ভারতের দিক থেকে সবচেয়ে নিকটবর্তী শহর হলো সাব্রুম, যা আগরতলা থেকে প্রায় ১৩৪ কিলোমিটার দূরে।


বাণিজ্যিক কার্যক্রম

  1. আমদানি ও রপ্তানি:
    বিলোনিয়া স্থলবন্দর দিয়ে প্রধানত নিম্নলিখিত পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়:

    • আমদানি পণ্য: ভারতের ত্রিপুরা থেকে পাথর, কয়লা, বালু, কাঠ, এবং কৃষিজাত পণ্য।
    • রপ্তানি পণ্য: বাংলাদেশ থেকে মাছ, সিমেন্ট, বস্ত্র, ভোজ্য তেল, এবং প্লাস্টিক সামগ্রী।
  2. রাজস্ব আয়:
    প্রতি বছর এই স্থলবন্দর থেকে সরকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব আয় করে। এটি বাংলাদেশের সীমান্ত বাণিজ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

  3. বাণিজ্যের সুযোগ:
    ত্রিপুরা ও বাংলাদেশের মধ্যে যোগাযোগ সহজ হওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এই স্থলবন্দর ব্যবহার করে লাভবান হচ্ছেন। এটি সীমান্তবর্তী অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখছে।

  4. অবকাঠামো ও উন্নয়ন পরিকল্পনা
  1. অবকাঠামো উন্নয়ন:

    • স্থলবন্দরের জন্য আধুনিক কাস্টমস ভবন স্থাপন করা হয়েছে।
    • যানবাহনের জন্য আলাদা পার্কিং এরিয়া।
    • পণ্য সংরক্ষণের জন্য গুদাম নির্মাণ চলছে।
  2. পথসংযোগ:
    ফেনী-পরশুরাম সড়ককে আরও উন্নত করা হয়েছে, যা বন্দর এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করেছে।

  3. ডিজিটাল ব্যবস্থা:
    বাণিজ্যিক কার্যক্রম দ্রুত করার জন্য কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স ও অন্যান্য প্রক্রিয়া ডিজিটালাইজড করা হচ্ছে।


সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব

  1. স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থান:
    বন্দরটি স্থানীয় জনগণের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে।

    • পরিবহন শ্রমিক, গুদাম কর্মী, এবং ব্যবসায়ী এই বন্দরের উপর নির্ভরশীল।
    • পর্যটন:
      সীমান্ত এলাকা হওয়ায় এবং ত্রিপুরার কাছাকাছি থাকায় এটি পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
  • উন্নয়ন পরিকল্পনা:
    ভবিষ্যতে এখানকার পরিবহন ও অবকাঠামো আরও উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে বিলোনিয়া স্থলবন্দর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আরও বড় ভূমিকা পালন করতে পারে।


  • বিলোনিয়া স্থলবন্দরের ভবিষ্যৎ গুরুত্ব

    1. ত্রিপুরা-বাংলাদেশ রেল সংযোগ:
      ত্রিপুরার সাব্রুম থেকে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত রেল যোগাযোগের একটি বৃহৎ প্রকল্প চলছে। এর মাধ্যমে বিলোনিয়া স্থলবন্দরও ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে পরিণত হবে।

    2. আন্তঃদেশীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি:
      দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আন্তঃদেশীয় বাণিজ্যের অংশ হিসেবে এই বন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    3. বিশ্ববাজারে প্রবেশ:
      বিলোনিয়া বন্দর থেকে পণ্য সহজে চট্টগ্রাম বন্দরে পাঠানো এবং সেখান থেকে বিশ্ববাজারে রপ্তানির সুযোগ তৈরি হচ্ছে।


    চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতা

    1. সড়ক অবকাঠামো:
      ফেনী থেকে বিলোনিয়া পর্যন্ত কিছু সড়ক এখনও সরু এবং মেরামতের প্রয়োজন।

    2. কারিগরি সুবিধার অভাব:
      কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স প্রক্রিয়ায় আরও প্রযুক্তিগত উন্নতি প্রয়োজন।

    3. সীমিত গুদাম সুবিধা:
      বর্তমানে পর্যাপ্ত গুদাম না থাকায় ব্যবসায়ীদের কিছুটা সমস্যায় পড়তে হয়।


    আপনার যদি আরো নির্দিষ্ট তথ্য বা অন্য কোনো প্রশ্ন থাকে, আমাকে জানাতে পারেন। 😊

    Comments

    Popular posts from this blog

    "Prioritizing Personal Time with Your Kids to Prevent Behavioral Issues"

       "Outbursts of Frustration When Screen Time Is Restricted" "Cries and shouts when not allowed to use a mobile device." It’s definitely challenging when kids are so drawn to smart devices, and Gen Alpha, who have grown up with technology all around them, feel especially connected to these gadgets. Here are some strategies that might help balance their needs with healthy boundaries: Set Clear Rules:  Establish specific times for device use (e.g., after homework, for 30 minutes in the evening) so they know there’s a structured time for it. Offer Alternatives:  Give them engaging activities that don’t involve screens, like crafts, books, or outdoor play, which can keep them just as entertained without being on a device. Consider a Basic Device : If you decide to provide a mobile, you could start with a basic one without social media apps, like a Gabb Phone or a Nokia C Series. These give them a sense of ownership without access to addictive features like games and soc...

    Our Seven Heroes

      বীরশ্রেষ্ঠের জীবনী , তাদের বীরত্বপূর্ণ অবদান এবং মৃত্যুর বেদনাদায়ক কাহিনি তুলে ধরা হলো :   ১ . বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল জন্ম : ১৬ ডিসেম্বর ১৯৪৭ , ভোলা জেলার হাজীপুর গ্রামে। পরিবার : দরিদ্র কৃষক পরিবারের সন্তান। বাবা হাবিবুর রহমান। বীরত্ব : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রণাঙ্গনে শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই করেন। শত্রুর ভারী হামলার মুখেও তিনি একা প্রতিরোধ চালিয়ে যান। তার এই লড়াই মুক্তিবাহিনীর অন্যদের পিছু হটার সুযোগ করে দেয়। মৃত্যু : ১৮ এপ্রিল ১৯৭১ , শত্রুর গুলিতে গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। বেদনাদায়ক মুহূর্ত : আহত অবস্থায় তার দেহ শত্রুপক্ষের হাতে পড়ে যায়। পরিবারের জন্য ছিল এক বিশাল বেদনার ঘটনা। ২ . বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান জন্ম : ২ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৩ , ঝিনাইদহ জেলার খোরদা খালিশপুর গ্রামে। পরিবার : দরিদ্র কৃষক পরিবার। বাবা আব্দুর রউফ। বীরত্ব : ধলই এলাকায় শত্রুর শক্ত ঘাঁটিতে মাইন পুঁতে তাদের অবস্থান ধ্বংস করেন। তার বুদ্ধি ও সাহস শত্রুর বড় ...

    চিনা বাদাম খেলে যা হয়

      চিনাবাদাম যেমন সুস্বাদু , তেমনি পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। ভিটামিন ও খনিজের উৎকৃষ্ট উৎস হিসেবে এটি হৃদস্বাস্থ্য থেকে শুরু করে পেশির ক্ষয় পূরণ — প্রায় সব ক্ষেত্রেই সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। এর পাশাপাশি , চিনাবাদাম অন্যান্য বাদামের তুলনায় তুলনামূলক সস্তা। তবে মার্কিন পুষ্টিবিদ ডিস্টিনি মুডি সতর্ক করে বলেন , “ অন্যান্য খাবারের মতো চিনাবাদামও অতিরিক্ত খেলে দেহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ” পুষ্টিগুণ ( প্রতি ২৮ গ্রাম ): ক্যালরি : ১৬১ ফ্যাট : ১৪ গ্রাম ( স্যাচুরেটেড ফ্যাট : ২ গ্রাম ) সোডিয়াম : ৫ মি . গ্রাম ম্যাগনেসিয়াম : ৪৮ মি . গ্রাম কার্বস : ৪ . ৫ গ্রাম ( আঁশ : ২ গ্রাম , চিনি : ১ গ্রাম ) প্রোটিন : ৭ গ্রাম উপকারিতা : উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের উৎস :   প্রতি ১০০ গ্রাম চিনাবাদামে ২৫ গ্রাম প্রোটিন থাকে , যা উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের উৎকৃষ্ট উৎস হতে পারে। এতে থাকা অ্যামিনো অ্যাসিড পেশির গঠন ও ক্ষতিপূরণে সহায়ক। হৃদস্বাস্থ্যের জন্য উপকারী :   চিনাবাদামে র...