Skip to main content

মহাকাশের কত অংশ আবিষ্কার করা গেছে

 

 এখানে মহাবিশ্বের একটি কনসেপ্টুয়াল চিত্র প্রদর্শিত হয়েছে, যেখানে মানুষের আবিষ্কৃত অংশ এবং বিশাল অজানা অংশ দেখানো হয়েছে। চিত্রটিতে "Explored" অংশটি ছোট একটি হাইলাইট করা অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে, এবং বাকি "Unknown" অংশটি বিশাল ও রহস্যময় রূপে চিত্রিত হয়েছে।

মানুষ মহাকাশ সম্পর্কে যে বিশাল জ্ঞান অর্জন করেছে, তা আসলে সমগ্র মহাবিশ্বের তুলনায় নগণ্য। মহাবিশ্ব এত বিশাল এবং জটিল যে বিজ্ঞানীরা এখনো এর একটি ক্ষুদ্র অংশই অন্বেষণ করতে পেরেছেন। আসুন, মহাকাশ আবিষ্কারের বর্তমান অবস্থা এবং এর সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে জানি।


মহাবিশ্বের আকার ও মানুষের জ্ঞান

১. দেখতে পাওয়া মহাবিশ্ব (Observable Universe):

  • বিজ্ঞানীরা "দেখতে পাওয়া মহাবিশ্ব" শব্দটি ব্যবহার করেন, যা সেই অংশ বোঝায় যেখানে আমরা আলো বা রশ্মি শনাক্ত করতে পারি।
  • এর ব্যাস প্রায় ৯৩ বিলিয়ন আলোকবর্ষ।
  • তবে বিজ্ঞানীদের মতে, মহাবিশ্ব দেখতে পাওয়া অংশের বাইরেও প্রসারিত এবং অসীম হতে পারে।

২. মহাবিশ্বের আবিষ্কৃত অংশ:

  • মহাকাশের প্রায় ৪% দৃশ্যমান পদার্থ (যেমন গ্রহ, নক্ষত্র, গ্যালাক্সি) আমরা শনাক্ত করতে পেরেছি।
  • বাকি ৯৬% অন্ধকার পদার্থ (Dark Matter) এবং অন্ধকার শক্তি (Dark Energy), যা সরাসরি দেখা সম্ভব নয়।

৩. মানুষের অন্বেষণের ক্ষেত্র:

  • সৌরজগত:

সৌরজগতের মধ্যে গ্রহ, উপগ্রহ, গ্রহাণু, এবং ধূমকেতু সম্পর্কে অনেক তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে অনেক গ্রহ ও উপগ্রহের বিশদ এখনও অজানা।

  • গ্যালাক্সি:

বিজ্ঞানীরা আমাদের গ্যালাক্সি মিল্কিওয়ে এবং এর বাইরের কিছু গ্যালাক্সির একটি ছোট অংশই আবিষ্কার করতে পেরেছেন।


মহাকাশ গবেষণার বড় সাফল্য

১. চাঁদ ও মঙ্গল:

  • মানুষ চাঁদে পৌঁছেছে (অ্যাপোলো মিশন), এবং মঙ্গলে রোভার পাঠিয়েছে।
  • তবে পুরো মহাকাশ অন্বেষণের তুলনায় এটি খুবই ছোট একটি অংশ।

২. টেলিস্কোপের মাধ্যমে গবেষণা:

  • হাবল টেলিস্কোপ এবং জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ মহাবিশ্বের দূরবর্তী অংশ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছে।
  • বিজ্ঞানীরা কয়েক মিলিয়ন গ্যালাক্সি এবং তার মধ্যে থাকা নক্ষত্র শনাক্ত করতে পেরেছেন।

৩. এক্সোপ্ল্যানেট আবিষ্কার:

  • বিজ্ঞানীরা ৫,৬০০টিরও বেশি এক্সোপ্ল্যানেট (সূর্যের বাইরে গ্রহ) আবিষ্কার করেছেন।

সীমাবদ্ধতা

১. মহাবিশ্বের বিস্তার:

  • মহাবিশ্ব ক্রমাগত প্রসারিত হচ্ছে। এর ফলে আমরা যা দেখতে পাই তা শুধুমাত্র সময় ও আলোর সীমার মধ্যে।

২. প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা:

  • মহাবিশ্ব এত বিশাল যে, এখনকার টেলিস্কোপ বা মহাকাশযান এর সীমাহীন গভীরতা অন্বেষণ করতে সক্ষম নয়।
  • নিকটতম নক্ষত্র (প্রক্সিমা সেন্টৌরি) পর্যন্ত পৌঁছাতেও আমাদের বর্তমান প্রযুক্তিতে কয়েক হাজার বছর লাগবে।

৩. ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জি:

  • ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জি মহাবিশ্বের ৯৬% গঠন করে, যা এখনো বিজ্ঞানীদের কাছে একটি রহস্য।

উপসংহার

মানুষ মহাবিশ্বের মাত্র ০.০১% থেকেও কম অংশ অন্বেষণ করতে পেরেছে। তবে প্রতিনিয়ত নতুন প্রযুক্তি, টেলিস্কোপ, এবং মহাকাশ মিশনের মাধ্যমে আমরা মহাবিশ্বের গভীরে প্রবেশ করছি।

মহাকাশের বিস্তার এবং এর রহস্য ইসলাম ও বিজ্ঞান উভয় ক্ষেত্রেই আল্লাহর ক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়। মানুষ যত জ্ঞান অর্জন করুক না কেন, মহাবিশ্বের পূর্ণ রহস্য জানা সম্ভব নয়। এটি আমাদের সৃষ্টিকর্তার অসীম জ্ঞান এবং সৃষ্টির গভীরতার প্রতি শ্রদ্ধা বৃদ্ধি করে। 

 

Comments

Popular posts from this blog

আইনজীবীদের বিক্ষোভ মিছিল I হাই কোর্ট ঘেরাওয়ে শিক্ষার্থীরা,

  https://bdnews24webnews.blogspot.com/ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা 'শেখ হাসিনার বিচারক, হুঁশিয়ার সাবধান' স্লোগান দিয়ে হাই কোর্ট ঘেরাও করেন। আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলমের নেতৃত্বে বুধবার দুপুর ১২টার দিকে তারা মিছিল সহকারে হাই কোর্ট চত্বরে প্রবেশ করেন, যেখানে ‘আওয়ামীপন্থি বিচারকদের’ পদত্যাগের দাবি জানানো হয়। একই সময়ে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সামনে দাঁড়িয়ে ‘বৈষম্যবিরোধী আইনজীবী সমাজ’ মিছিল করে, তারা হাই কোর্ট বিভাগের 'দলবাজ ও দুর্নীতিবাজ' বিচারকদের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেয়। https://bdnews24webnews.blogspot.com/ শিক্ষার্থীদের মিছিল শুরু হয় সকাল ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য থেকে। বিভিন্ন ছাত্র হল ও কলাভবন প্রদক্ষিণ করে, মিছিলটি আবার রাজু ভাস্কর্যের সামনে ফিরে আসে। সেখান থেকে বাংলা একাডেমির সামনের রাস্তা দিয়ে তারা হাই কোর্টের দিকে যাত্রা করে। মিছিল থেকে ‘লড়াই লড়াই, লড়াই করো, হাই কোর্ট ঘেরাও করো’, 'আওয়ামী লীগের বিচারক, হুঁশিয়ার সাবধান', 'শেখ হাসিনার বিচারক, হুঁশিয়ার সাবধান', 'আবু সাঈদ, মুগ্ধ, শেষ ...

শাহজাহান মসজিদ. The Shah Jahan Mosque

  শাহজাহান মসজিদ: মোগল স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের থাটা শহরে অবস্থিত শাহজাহান মসজিদ মোগল স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন। এটি ১৬৪৭ সালে সম্রাট শাহজাহান নির্মাণ করেছিলেন, যিনি তাজমহলের নির্মাণের জন্যও বিখ্যাত। এই মসজিদ তার অতুলনীয় স্থাপত্য, জ্যামিতিক নকশা এবং চীনামাটির কারুকাজের জন্য সুপরিচিত। মসজিদের ইতিহাস শাহজাহান মসজিদ মোগল সাম্রাজ্যের চতুর্থ সম্রাট শাহজাহানের আদেশে নির্মিত হয়। কথিত আছে যে, শাহজাহান যখন সিন্ধু অঞ্চলে অবস্থান করছিলেন, তখন তিনি থাটা শহরের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে এই মসজিদ নির্মাণের নির্দেশ দেন। এটি মূলত ইসলামি স্থাপত্যের সৌন্দর্য এবং মোগল রাজকীয় শৈলীর এক অপূর্ব সংমিশ্রণ। স্থাপত্য ও নকশা শাহজাহান মসজিদে মোগল স্থাপত্যশৈলীর এক বিশেষ রূপ দেখা যায়, যা ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যান্য মসজিদ থেকে ভিন্ন। এর মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো: গম্বুজ ও মিনার: মসজিদটিতে প্রায় ১০০টি গম্বুজ রয়েছে, যা পাকিস্তানের অন্য কোনো মসজিদে দেখা যায় না। প্রধান গম্বুজটি সুবিশাল এবং আকর্ষণীয়, যা মসজিদের কেন্দ্রস্থলে অবস্থান করছে। শব্দ প্রতিফলন ব্যবস্থা: মসজ...

Unplug 24: 23,000 শিক্ষার্থীর সোশ্যাল মিডিয়া বর্জনের মাধ্যমে সতর্কবার্তা

জ্যাকসন পাম্বিড, রাইলে গিলেস, ইউয়ান উড, জর্জ ফিলিপ এবং জেমস জনস্টন, ব্রিসবেনের মারিস্ট কলেজ অ্যাশফোর্ডের শিক্ষার্থীরা, ২৪ অক্টোবর বৃহস্পতিবার Unplug24 সমর্থনকারী দেশজুড়ে ২৩,০০০ বোর্ডারদের মধ্যে রয়েছেন। ২০,০০০ এরও বেশি অস্ট্রেলিয়ান শিক্ষার্থী অনলাইন বিপদের বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য জাতীয় উদ্যোগ-এর অংশ হিসেবে ২৪ ঘণ্টার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ত্যাগ করেছে। ওয়েন হোল্ডসওয়ার্থ তার ছেলে ম্যাকের স্মরণে Unplug24 চালু করেন, যিনি এক বছর আগে এই দিনে, মাত্র ১৭ বছর বয়সে নিজের জীবন শেষ করেন। মেলবোর্নের এই তরুণ, যিনি একজন কার্পেন্টার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন, একটি সেক্সটরশন পরিকল্পনার শিকার হন, যেখানে তাকে নিজের একটি আপত্তিকর ছবি পাঠাতে প্রলুব্ধ করা হয় এবং তারপর স্ন্যাপচ্যাট ও ইনস্টাগ্রামে ব্ল্যাকমেইল করা হয়। কয়েক সপ্তাহ আগে, সিডনির ১২ বছর বয়সী শিক্ষার্থী শার্লট ও’ব্রায়েন অনলাইনে বুলিংয়ের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করলে পুরো দেশ শোকে মুষড়ে পড়ে। এই উদ্যোগটি গায়িকা জেসিকা মাউবয়, ফিটনেস বিশেষজ্ঞ মিশেল ব্রিজেস, অলিম্পিয়ান লানি প্যালিস্টার, ফক্স ফুটির সারা জোন্স, বাস্কেটবল খেলোয়াড় অ্যালিস কুনেক,...